বদলে যাচ্ছে ক্রিকেট বিশ্বকাপের নিয়ম, তিন ফরম্যাটেই পরিবর্তন জয় শাহের আইসিসির, আকর্ষণ বৃদ্ধির লক্ষ্যে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত
- indiasportsgroup
- 10 hours ago
- 2 min read

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থার বার্ষিক সাধারণ সভায় বেশ কিছু প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। তিন ধরনের ক্রিকেটের বিশ্বকাপের ফরম্যাটই বদলে যেতে পারে। শুরু হতে পারে টি-টোয়েন্টির বিশ্ব ক্লাব কাপ।
এক দিনের এবং টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে গুরুত্বপূর্ণ কিছু পরিবর্তন করল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা (আইসিসি)। জয় শাহেরা বদলাতে চলেছেন বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফরম্যাটও। ক্রিকেটকে আরও আকর্ষণীয় এবং প্রতিযোগিতামূলক করে তুলতে একগুচ্ছ প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে এডিনবরায় সংস্থার বার্ষিক সাধারণ সভায়।
নতুন ফরম্যাট চালু হতে পারে ২০২৭ সাল থেকেই। দক্ষিণ আফ্রিকা, জ়িম্বাবোয়ে এবং নামিবিয়ায় হবে এক দিনের ক্রিকেটের আগামী বিশ্বকাপ। মোট ১৪টি দেশ অংশগ্রহণ করবে। নতুন প্রস্তাবে সেমিফাইনালের আগে তিনটি পর্যায় থাকবে। ১৪টি দলের মধ্যে ক্রমতালিকায় সবচেয়ে নিচে থাকা তিনটি দলকে নিয়ে লিগ পদ্ধতিতে হবে সুপার সিরিজ়। তিনটি দলের মধ্যে যারা এক নম্বরে শেষ করবে, তারা উঠবে দ্বিতীয় রাউন্ডে।
দ্বিতীয় রাউন্ডে খেলবে ১২টি দল। দলগুলিকে দু’টি গ্রুপে ভাগ করে রাউন্ড রবিন লিগ করে খেলা হবে। মোট ৩০টি ম্যাচ হবে দ্বিতীয় রাউন্ডে। এখান থেকে দু’টি গ্রুপের সেরা তিনটি দল এবং দু’গ্রুপ মিলিয়ে আর একটি সেরা দল পৌঁছে যাবে তৃতীয় রাউন্ডে।
তৃতীয় রাউন্ডে ওঠা সাতটি দলকে নিয়ে আবার রাউন্ড রবিন লিগ ফরম্যাটে খেলা হবে। তার পর প্রথম চারটি দল সেমিফাইনালে উঠবে। মোট ২১টি ম্যাচ হবে এই রাউন্ডে। তৃতীয় রাউন্ডের পর শীর্ষে শেষ করা দল সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে চতুর্থ স্থানে শেষ করা দলের। দ্বিতীয় এবং তৃতীয় স্থানে শেষ করা দল খেলবে অপর সেমিফাইনালে।
এক দিনের বিশ্বকাপের বাছাই পর্বে আর সুপার লিগ হবে না। এতে কিছুটা হলেও সুবিধা কমবে সহযোগী দেশগুলির।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ
নতুন ফরম্যাট চালু হবে ২০২৮ সাল থেকে। পরের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ হবে অস্ট্রেলিয়া এবং নিউ জ়িল্যান্ডে। মোট ২০টি দল খেলবে। প্রথম রাউন্ডে চারটি করে দল নিয়ে পাঁচটি গ্রুপ করা হবে। প্রতি গ্রুপের প্রথম দু’দল পরের পর্বে বা ‘সুপার টেন’ পর্বে উঠবে।
সুপার টেন পর্বে আবার পাঁচটি করে দল নিয়ে দু’টি গ্রুপ হবে। প্রতি গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন দল সরাসরি সেমিফাইনালে পৌঁছে যাবে। শেষ চারের বাকি দু’টি দল ঠিক হবে এলিমিনেটরের মাধ্যমে। একটি গ্রুপে দ্বিতীয় স্থানে শেষ করা দলকে খেলতে হবে অন্য গ্রুপের তৃতীয় দলের সঙ্গে। সেই ম্যাচ যারা জিতবে তারা শেষ চারে জায়গা করে নেবে। সেমিফাইনাল এবং ফাইনাল হবে আগের মতোই।
বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ
এখন ন’টি দলকে নিয়ে হয় টেস্ট বিশ্বকাপ। দলের সংখ্যা বাড়িয়ে ১২ করা হতে পারে। আফগানিস্তান, আয়ারল্যান্ড এবং জ়িম্বাবোয়েকে অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে। সরাসরি ফাইনালের পরিবর্তে সেমিফাইনাল করার কথা ভাবছেন আইসিসি কর্তারা। দলগুলিকে উৎসাহিত করতেই এই ভাবনা।
আরও কয়েকটি প্রস্তাব অনুমোদন হয়েছে আইসিসির সভায়। ফুটবলের বিশ্ব ক্লাব কাপের মতো ক্রিকেটেও একটি টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতা শুরুর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিভিন্ন দেশের ফ্র্যাঞ্চাইজ়ি লিগের সেরা দলগুলিকে নিয়ে হবে এই প্রতিযোগিতা। এ জন্য ক্রিকেট ক্যালেন্ডারে নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবস্থা করা হতে পারে। ‘২০২৭-৩১ ফিউচার পোগ্রাম শেষ হলে সাদা বলের দ্বিপাক্ষিক সিরিজ়ের সংখ্যা কমিয়ে দেওয়া হতে পারে। তার বদলে চারটি করে দল নিয়ে আন্তঃমহাদেশীয় প্রতিযোগিতার আয়োজনের কথা ভাবা হয়েছে। এতে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে পারে।
কিছু দিন ধরে শোনা যাচ্ছিল এক দিনের ক্রিকেটে ওভার সংখ্যা কমিয়ে ৪০ করা হতে পারে। তেমন কোনও প্রস্তাব আসেনি আইসিসির সভায়। জয়েরা চাইছেন, প্রতিযোগিতার মান বজায় রাখতে পূর্ণ সদস্য দেশগুলির ‘এ’ বা দ্বিতীয় দলের সঙ্গে আরও বেশি ম্যাচ খেলুক সহযোগী দেশগুলির সঙ্গে। সব প্রস্তাবই আপাতত পুরুষদের ক্রিকেটের জন্য।




Comments