জঘন্য ফিল্ডিং, হতশ্রী বোলিংয়ে বিলেতের মাটিতে ডুবল ভারত! টি২০ সিরিজ়ে চুনকাম শ্রেয়সেরা, হাতছাড়া শীর্ষস্থানও
- indiasportsgroup
- 4 days ago
- 3 min read

না আছে ব্যাটিং, না আছে বোলিং। সঙ্গে যোগ হয়েছে জঘন্য ফিল্ডিং। তিন বিভাগেই পর্যুদস্ত হয়েছে ভারত। পঞ্চম টি-টোয়েন্টিতে তারা হেরেছে ৫৬ রানে।
কয়েক মাস আগে এই দলটা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতেছে দেখলে কে বলবে। আয়ারল্যান্ডের পর ইংল্যান্ডের মাটিতেও ভারতের যে খেলা দেখা গেল, তা মাথা নত করার জন্য যথেষ্ট। না আছে ব্যাটিং, না আছে বোলিং। সঙ্গে যোগ হয়েছে জঘন্য ফিল্ডিং। তিন বিভাগেই পর্যুদস্ত হয়েছে ভারত। পঞ্চম টি-টোয়েন্টিতে তারা হেরেছে ৫৬ রানে। প্রথমে ব্যাট করে ইংল্যান্ড তুলেছিল ২৫৭/৩। জবাব ভারত থেমে গেল ২০১/৮ স্কোরে।
প্রথম ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেস্তে গিয়েছিল। পরের চারটি ম্যাচই হারল তারা। চুনকাম হতে হল ইংল্যান্ডের কাছে। সেই সঙ্গে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে দলগত শীর্ষস্থানও হাতছাড়া হল। শতরান করে ইংল্যান্ডের নায়ক জস বাটলার (১৩১)। ৯৫ রান করে কৃতিত্ব প্রাপ্য হ্যারি ব্রুকেরও।
টসের সময় ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক বলেছিলেন, এই ম্যাচ জিতলে তাদের শীর্ষে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগাতে চান তাঁরা। ঠিক সেটাই হল। ইংল্যান্ড যা খেলেছে তাতে যোগ্য দল হিসাবেই বিশ্বের এক নম্বর দল হল তারা। হ্যারি ব্রুক দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে দলটার ভোল বদলে গিয়েছে। অত্যন্ত আগ্রাসী ক্রিকেট খেলছে তারা। একদম যুগোপযোগী ক্রিকেট।
সেই দলকে যোগ্য ভাবে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ব্রুক। আগের ম্যাচেও অর্ধশতরান করেছিলেন। তাঁর ঝোড়ো ইনিংসে উড়ে গিয়েছিল ভারতের প্রতিরোধ। এ দিন ভারতীয় বোলারদের পাড়ার স্তরে নামিয়ে আনলেন তিনি। যেখানেই বল করা হোক, ব্রুক পাত্তাই দিচ্ছিলেন না। সপাটে বল মাঠের বাইরে উড়িয়ে দিচ্ছিলেন। মনেই হচ্ছিল তাঁর খেলায় কোনও জড়তা রয়েছে।
তাঁকে আরও সুযোগ করে দিয়েছে ভারতের ফিল্ডিং। ষষ্ঠ ওভারে প্রিন্স যাদবের বল বুঝতে না পেরে চালিয়েছিলেন ব্রুক। কানায় লেগে বল গিয়েছিল থার্ডম্যানের দিকে। শিবম দুবের বলের দিকে চোখ রাখতে রাখতেও এতটাই এগিয়ে গেলেন যে বল তাঁর হাতেই পড়ল না। পুরোপুরি দিগ্ভ্রান্ত হয়ে গিয়েছিলেন। সূর্যের আলো চোখে পড়ায় সমস্যা হয়েছিল কি না, তা অবশ্য অজানা।
কিন্তু ১৬তম ওভারে সূর্যাংশ শেড়গে যে ক্যাচটি মিস্ করলেন তার কোনও অজুহাত আছে? অক্ষর পটেলের বল ডিপ এক্সট্রা কভারের দিকে মেরেছিলেন জস বাটলার। বল সোজাসুজি শেড়গের হাতে এসেছিল। হাত পাততেও বল ফস্কে গেল। ক্যাচ মিস্ করার পর কোনও অনুতাপও দেখা গেল না তাঁর আচরণে। ভারতীয় দলের খেলা শুরু করতে না করতেই এই মনোভাব।
এখানেই শেষ নয়। শেষ ওভারেও ক্যাচ পড়েছে। এ বারও সেই ব্রুকের। প্রিন্সের বলে মিড উইকেটে চালাতে গিয়েছিলেন। ঈশান কিশন সম্ভবত দিনের সহজতম সুযোগটি নষ্ট করেন।
ভারতের বোলিংয়েরও খোলনলচে বেরিয়ে পড়েছে এ দিন। কতটা খারাপ বোলিং করতে পারে তারা, তার আদর্শ উদাহরণ দেখা গিয়েছে। আগের দিন বাটলার আউট হওয়ার পর ফিল সল্ট এবং ব্রুক মিলে দলকে জিতিয়েছিলেন। এ দিন সল্ট (৬) ফিরে যাওয়ার পর ভারতীয় বোলারদের শাসন করলেন বাটলার এবং ব্রুক।
শ্রেয়সের সিদ্ধান্তও অদ্ভুত লেগেছে। অর্শদীপ শুরুতে রান দিচ্ছিলেন না। কিন্তু তাই বলে পাওয়ার প্লে-তেই তাঁকে দিয়ে তিন ওভার করিয়ে নিতে হবে। অধিনায়ক থাকাকালীন রোহিত শর্মা এবং সূর্যকুমার যাদব কী ভাবে সঠিক সময়ে বোলারদের ব্যবহার করতেন তা বার বার দেখা গিয়েছে। বোলিং পরিবর্তনই অনেক ম্যাচে জিতিয়েছে ভারতকে। শ্রেয়সের মধ্যে সিদ্ধান্তহীনতার ছাপ স্পষ্ট।
অর্শদীপ তবু সম্মমান রেখেছেন। কিন্তু ভারতের বাকি বোলারদের ইকনমি রেটের দিকে তাকানো যাচ্ছে না। প্রসিদ্ধ কোনও মতে ১০-এর গন্ডি পেরোননি। বাকিরা লজ্জার মুখ লুকোতে পারেন। প্রিন্স চার ওভারে দিলেন ৬০। অক্ষর চার ওভারে ৬৩। সূর্যাংশ তিন ওভারে ৩৯। কেন শিবমকে দলে নিয়েও বল করানো হচ্ছে না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছিল। শিবমকে দিয়ে একটি ওভার করানো হল ঠিকই। তিনি দু’টি উইকেটও নিলেন। তবে ২২ রান হজম করলেন।
ব্রুক এবং বাটলার দ্বিতীয় উইকেটে ১০২ বলে ২৩৩ রানের জুটি গড়লেন। টি-টোয়েন্টিতে যে কোনও উইকেটে সর্বোচ্চ জুটির নিরিখে তা থাকবে দ্বিতীয় স্থানে। প্রথমে আফগানিস্তানের হজরতুল্লাহ জাজাই এবং উসমান ঘানির ২৩৬ রানের জুটি। টি-টোয়েন্টি ইংল্যান্ডের হয়ে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানের নিরিখে দ্বিতীয় স্থানে বাটলারের ১৩১ রান।
ভারতের দল নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক হবে না, এমনটা হয়ই না। এ দিন আচমকা বাদ দিয়ে দেওয়া হল বৈভব সূর্যবংশীকে। ফেরানো হল সঞ্জু স্যামসনকে। দলে জায়গা পোক্ত করার মতো ইনিংস খেলা দরকার ছিল সঞ্জুর। তিনি ১৪ বলে ২৭ করে ফিরে যান। অভিষেক শর্মার অবদান মাত্র ৩। ব্যর্থ অধিনায়ক শ্রেয়সও (২৮)। মুখরক্ষা হয়েছে শুধু ঈশান (৫৬) এবং তিলকের ইনিংসে। তবে লজ্জা এড়ানো গেল না।




Comments