পরিকাঠামোর অভাবে বাংলা ছেড়ে ভিনরাজ্যে অনুশীলনজাতীয় স্তরে পদক জয় ১৪ বছরের সানিথির

ঋতিকা চক্রবর্তী: বয়স সংখ্যা মাত্র। তা আরও একবার প্রমাণ করল বারাসতের সানিথি মুখোপাধ্যায়৷ মাত্র ১৪ বছর বয়সে সিনিয়র জাতীয় স্তরের সাঁতার প্রতিযোগিতায় দুর্দান্ত সাফল্য পেল সানিথি। চারটি পদক জিতেছে সে। এই প্রথমবার সিনিয়র দলের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেল সানিথি। আহমেদাবাদে অনুষ্ঠিত প্রথম শট কোর্স সিনিয়র জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে এত কম বয়সে এই সাফল্য নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়।
এই প্রতিযোগিতায় সর্বকনিষ্ঠ প্রতিযোগী হিসেবে সানিথি ১০০ মিটার বাটারফ্লাইয়ে রুপোর পদক জিতেছে। ২০০ মিটার বাটারফ্লাইয়ে রূপো, ৪০০ মিটার ব্যক্তিগত মিডলেতে ব্রোঞ্জ পদক জিতেছে। ৪০০ মিটার ফ্রি স্টাইলেও সানিথি ব্রোঞ্জ পদক জিতেছে।
এর আগেও সাব-জুনিয়র ন্যাশনাল অ্যাকুয়াটিক চ্যাম্পিয়নশিপে সানিথি বাংলার ঝুলিতে এনে দিয়েছিল চারটি সোনা ও একটি ব্রোঞ্জ পদক। এত কম বয়সে এই সাফল্যে খুশি সানিথি ও তাঁর পরিবার। বাবা সঞ্জয় মুখোপাধ্যায় সরকারি স্কুলের শিক্ষক। মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ানে ভাগীরথীর খুব কাছে থাকতেন তাঁরা৷ সেখানকার বিভিন্ন ওয়াটার রাইডে ছোটবেলা থেকেই সানিথি আগ্রহী ছিল। নিজেরা সাঁতার জানতেন না, তাই সন্তানকে সাঁতার শেখানোর সিদ্ধান্ত নেন৷ বারাসাতে প্রথম ইন্দ্রনীল দাসের কোচিংয়ে সাঁতার শেখে সানিথি৷ ২০২৩ সালে ওড়িশায় সাব-জুনিয়র বিভাগে তিনটি সোনা-সহ সেরা সাঁতারু হয়েছিল। বয়সভিত্তিক আর্ন্তজাতিক প্রতিযোগিতাতেও নজর কেড়েছে সে৷ সানিথির বাবা বলেন, "এখন সবে শুরু। ১৪ বছর বয়স ওর। আগামীর পথ আরও কঠিন ও সুদুরপ্রসারি। এখন অনেক এগিয়ে যেতে হবে এবং ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে। বাংলাতে পরিকাঠামো ছিল না, চার-মাস অনুশীলন বন্ধ থাকত বলেই সুইমিং ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ার তরফ থেকে ওর অনুশীলনের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছিল।"
তবে বাংলার মেয়ের এই সাফল্যেও রয়েছে কিছুটা হতাশা। পরিকাঠামোর অভাবে বাংলা থেকে ওড়িশা পাড়ি দিয়ে সানিথি সাঁতার-চর্চা করে সুইমিং ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া'য়। বলা বাহুল্য, শুধু সানিথিই নয়, বাংলা থেকে একাধিক ক্রীড়াবিদরাই এখন ওড়িশা কিংবা অন্য রাজ্যে পাড়ি দিচ্ছে। সানিথির কথায়, "বাংলার পরিকাঠামোর অভাবেই ভুবনেশ্বরে চলে যেতে বাধ্য হয়েছি৷ কারণ ভালো সাঁতারু হওয়ার জন্য সারাবছর অনুশীলন জরুরি। ভুবনেশ্বরে আমি এবং মা থাকি। লক্ষ্য এখন ২০৩৬ সালে অলিম্পিকে যোগ্যতা অর্জন করা৷ সেভাবেই লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাব।"




Comments