পানোস মোহনবাগান নিয়ে ভাবেন, আগের কোচেরা ভাবতেন না! ইস্টবেঙ্গলকে খোঁচা দেবাশিস, সৃঞ্জয়ের, শিল্ড এল সবুজ-মেরুন তাঁবুতে

ডুরান্ডের ফাইনালে ইস্টবেঙ্গলের কাছে হারলেও কোচ পানাজিয়োটিস দিমপেরিসের উপর ভরসা রাখছেন মোহনবাগানের সভাপতি দেবাশিস দত্ত ও সচিব সৃঞ্জয় বসু।
সমর্থকদের একাংশ কোচের সমালোচনা করছেন। বিশেষ করে ডুরান্ডের ফাইনালে ইস্টবেঙ্গলের কাছে ১-৪ গোলে হেরে ট্রফি হারানোর স্মৃতি এখনও টাটকা তাঁদের মনে। আইএসএলেও হার দিয়ে শুরু হয়েছে মোহনবাগানের। পরের দুই ম্যাচ জিতলেও দাপট দেখাতে পারেননি। কিন্তু সেই কোচ পানাজিয়োটিস দিমপেরিসের উপর ভরসা রাখছেন মোহনবাগানের সভাপতি দেবাশিস দত্ত ও সচিব সৃঞ্জয় বসু। তাঁরা খোঁচা মেরেছেন ইস্টবেঙ্গলকে।
বুধবার মোহনবাগান ক্লাব তাঁবুতে আইএফএ শিল্ড জয়ের উৎসব হয়েছে। পতাকা উত্তোলন করা হয়। দেবাশিস, সৃঞ্জয়-সহ বাগানের সকল ক্লাব-কর্তারা উপস্থিত ছিলেন। কোচ দিমপেরিস, অধিনায়ক শুভাশিস বসুও ছিলেন সেখানে।
ক্লাব তাঁবুতে সাংবাদিকদের সামনে কোচ ও দলের প্রশংসা শোনা গিয়েছে দুই কর্তার মুখে। দেবাশিস বলেন, “আমরা তিনটে প্রতিযোগিতা এখনও পর্যন্ত খেলেছি। দুটো প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন, একটাই রানার্স। ডুরান্ডও পেতাম। যদি না আমাদের ইচ্ছাকৃতভাবে সেমিফাইনাল খেলতে নর্থইস্টে না পাঠানো হত। শিল্ড চ্যাম্পিয়ন হয়েছি। আমরা এই মরসুমে ১০টা ম্যাচ খেলেছি। ৮টা জিতেছি। ২টো হেরেছি। তাই চিন্তার এখনও কোনও কারণ নেই। খেলায় হারজিত থাকবেই। ধীরে ধীরে ওঠাই ভাল। গ্রাফ শুরুতে উপরে চলে গেলে পরের দিকে পড়ে যায়। এ বারের দল খুব ভাল। আমি বিশ্বাস রাখি, দল শেষ অবধি আরও ভাল করবে।”
কোচ পানোসের একটি দিক তুলে ধরেছেন দুই কর্তা। তাঁদের মতে মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট হওয়ার পর থেকে যাঁরা এই দলে কোচিং করিয়েছেন, তাঁদের থেকে বর্তমান কোচ আলাদা। দেবাশিস বলেন, “মোহনবাগান যে দিন থেকে সঞ্জীব গোয়েন্কার কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করে দল বানিয়েছে সে দিন থেকে এই ভদ্রলোকের মোহনবাগান ক্লাব সম্পর্কে যে আন্তরিকতা আছে, আমি আগের কোনও কোচের মধ্যে দেখিনি। ভাল কোচ-খারাপ কোচ বিতর্কে যাচ্ছি না। ইনি মোহনবাগান ক্লাবের ইতিহাস সম্পর্কে পড়াশোনা করে ক্লাবকে যে সম্মান দিচ্ছেন, তা আগের কোচেরা দিতেন না। আগের কোচেরা মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট নিয়ে ভাবতেন। এই কোচ মোহনবাগান ক্লাবকে নিয়ে ভাবেন। মোহনবাগান ক্লাবের ঐতিহ্য ও ইতিহাস নিয়ে ভাবনাচিন্তা করেছেন। সেখানে সাফল্য পেতে চাইছেন। এটা আমি দায়িত্ব নিয়ে বলতে পারি।” একই কথা বলেন সৃঞ্জয়। তাঁর মতে, মোহনবাগানের ঐতিহ্য নিয়েও ভাবেন পানোস।
সৃঞ্জয়ের মতে, লম্বা লিগে হার-জিত তো থাকবেই। সেটাই দেখা যাচ্ছে। তিনি বলেন, “এটাই তো লিগের মজা। একটা ম্যাচ জিতব, একটা হারব, একটা ড্র করব, আবার পরেরটা জিতব। প্রতিটা ম্যাচ জিতে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার ঘটনা ইতিহাসে হয়েছে কিনা জানি না।”
এ কথা শুনেই কলকাতা লিগ ও ইস্টবেঙ্গলকে খোঁচা মারেন দেবাশিস। সরাসরি নাম না করে তিনি বলেন, “কলকাতা লিগে হত। একটা বিশেষ ক্লাবের জন্য এটা হত। কিন্তু খেলাধুলো যেখানে ঠিক মতো হয় সেখানে হবে না।”
তা শুনে দেবাশিসের সুরে সুর মিলিয়ে সৃঞ্জয় বলেন, “হ্যাঁ, কলকাতা লিগে এ বার শেষে এ রকম আইন করা হয়েছিল, যাতে একটা বিশেষ ক্লাব জিতে যায়। সেটা হল না।”
গত ম্যাচে দ্বিতীয়ার্ধে দিমপেরিসের বদলই খেলার ছবি বদলেছে। জিতেছে মোহনবাগান। তাতে সমালোচনার কোনও কারণই নেই বলে মনে করেন দেবাশিস। তিনি বলেন, “এই কোচ বিদগ্ধ। বিশ্ব ফুটবলের এটাই নিয়ম, হাফ টাইমে যিনি সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন তিনিই বড় কোচ। তাই যদি হাফ টাইমে আমাদের কোচ সঠিক সিদ্ধান্ত নেন, বা খেলা ধরে সঠিক বদল করেন, তা হলে চিন্তা কোথায়? কোচের উপর আস্থা আছে। পরবর্তীতেও থাকবে।”
অতীতের প্রসঙ্গ টেনে সমর্থকদের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন বাগান সভাপতি। দেবাশিস বলেন, “ আমি আর সৃঞ্জয় কিবু ভিকুনাকে কোচ করে এনে যে দল বানিয়েছিলাম, তখন সমর্থকেরাই আর্থিক তছরুপের অভিযোগ তুলেছিল। সেই দলই তো জাতীয় লিগ জিতেছে। তাই ধৈর্য ধরতে হবে। তিনটে প্রতিযোগিতার মধ্যে দুটো জিতেছি। দল ভাল খেলছে। জিতলে কোচের প্রশংসা হয়। হারলে কোচ আর কর্মকর্তাদের সমালোচনা হয়। এটাই তো স্বাভাবিক।”




Comments